কম সুদে গ্রামে বাড়ি করার জন্য ব্যাংক লোন আবেদন করার পদ্ধতি

কম সুদে গ্রামে বাড়ি করার জন্য ব্যাংক লোন আবেদন করার পদ্ধতি। মানুষ প্রতিনিয়ত জানতে আগ্রহী হাউজ লোন কিভাবে পাব? জমি কেনার জন্য লোন এর আবেদন কিভাবে করতে হয়? ইত্যাদি সম্পর্কে। এই আর্টিকেল পরলে জানতে পারবেন কিভাবে কোন ব্যাংক অথবা প্রতিষ্ঠান হতে লোন পাওয়া যায়।

কম সুদে গ্রামে বাড়ি করার জন্য ব্যাংক লোন আবেদন করার পদ্ধতি।


গ্রামে বাড়ি করার জন্য ব্যাংক লোন নেওয়ার উপায় কি?

মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যাংক অথবা কোন প্রতিষ্ঠান হতে লোন গ্রহণ করে। তবে বাড়ি তৈরির লোন সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাংক ভিন্ন রকম ডকুমেন্ট  এবং আবেদন পদ্ধতি চালু করেছে। এছাড়াও বাড়ি তৈরির লোন গ্রহণের পূর্বে গ্রাহককে অবশ্যই জানতে হবে কোন ব্যাংক সহজ সরল তেলোন প্রদান করে। আবার কোন ব্যাংক হতে লোন গ্রহণ করলে সুযোগ সুবিধা বেশি পাওয়া সম্ভব।

এখানে দেখুন- সোনালী ব্যাংক লোন নেওয়ার নিয়ম কি?

এবি ব্যাংক লোন সহজ কিস্তিতে লোন নেওয়ার উপায় কি?

ইস্টার্ন ব্যাংক লোন সহজ কিস্তিতে নেওয়ার উপায় কি?


এখানে একজন গ্রাহক জানতে পারবেন কিভাবে সহজ  শর্তে এবং কম সুদে বাড়ি তৈরির জন্য হোম লোন এর আবেদন করা যায়। এছাড়াও লোন সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন নিয়ম মানতে হয়। এক একটি ব্যাংক একেক রকম নিয়ম প্রদান করে।

তবে নিচে যে নিয়মগুলো উল্লেখ করা হয়েছে এই নিয়মগুলো প্রতিটি ব্যাংক হতে লোন আবেদন করার ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে। তাই এই নিয়মগুলো আবেদনকারীকে অবশ্যই জানতে হবে।

হোম লোন প্রদানকারী ব্যাংক সমূহ কি কি?

হোম লোন প্রদানকারী ব্যাংক সমূহ কি কি?

জমি ক্রয় করা অথবা বাড়ি তৈরি করার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো বেশি লোন প্রদান করে। এক্ষেত্রে এনজিও সংস্থাগুলো অবদান খুব কম। তবে প্রতিটি ব্যাংক যে লোন প্রদান করে তা কিন্তু নয়। নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংক রয়েছে যেগুলো গ্রাহকদের সহজ শর্তে বাড়ি তৈরি অথবা বাড়ি ক্রয় করার জন্য লোন প্রদান করে।

নিচের তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো হতে হোম লোন এর আবেদন করলে খুব দ্রুত লোন পাওয়া সম্ভব। এছাড়াও এই ব্যাংকগুলো খুব কম সুদে গ্রাহকদের কাছে লোন সেবা পৌঁছে দেয়।

  • ইস্টার্ন ব্যাংক
  • সিটি ব্যাংক
  • এবি ব্যাংক
  • কৃষি ব্যাংক
  • আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক
  • NRBC ব্যাংক

হোম লোন এর পরিমান কত টাকা?

যেকোনো বাড়ি তৈরি অথবা বাড়ি ক্রয় করার ক্ষেত্রে পাঁচ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত লোন পাওয়া যায় । তবে এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে গ্রাহক যে ব্যাংক হতে লোন গ্রহণ করছে সে ব্যাংক যদি সরকারি অথবা বাণিজ্যিক হয় তাহলে বেশি পরিমাণ লোন পাওয়া সম্ভব । এছাড়া বেসরকারি ব্যাংক এর ক্ষেত্রে ৫ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে এক কোটি টাকা পর্যন্ত লোন পাওয়া সম্ভব ।

হোম লোন সুদের হার কত?

লোন এর অন্যান্য ধারণ আলোচনা করলে অনেক পরিমাণ সুদের হার পাওয়া যায় । কিন্তু বাড়ি তৈরি করার ক্ষেত্রে সুদের হার নয় থেকে বারো শতাংশ হয়ে থাকে । এক্ষেত্রে গ্রাহককে লোন এর পরিমাণ অনুসারে শতকরা 9 শতাংশ থেকে ১২% পর্যন্ত সুদ দিতে হবে। যা অন্যান্য লোন এর ক্যাটাগরি থেকে খুবই কম পরিমাণ সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন- ইসলামী ব্যাংক প্রবাসী লোন পদ্ধতি

লোন পরিশোধ এর সময়কাল কত?

অন্যান্য লোন এর ক্ষেত্রে পরিশোধ করার সময় কাল ছয় মাস হতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হয় । কিন্তু কোন গ্রাহক বাড়ি তৈরি করার ক্ষেত্রে লোন গ্রহণ করলে সর্বোচ্চ ২৫ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে । যেটা একজন গ্রাহকের কাছে খুব সহজেই পরিশোধ করা সম্ভব । কিন্তু অন্য কোন পদ্ধতিতে লোন গ্রহণ করলে এমন সুযোগ পাওয়া যাবে না।

বাড়ি তৈরি লোন পরিশোধ এর পদ্ধতি কি?

এখানে লোন পরিশোধ করার পদ্ধতি হিসেবে একটি পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। তা হচ্ছে মাসিক কিস্তির ভিত্তিতে লোন পরিশোধ। প্রতিমাসের নির্দিষ্ট একটি তারিখে যে পরিমাণ লোন মাসে জমা দিতে হয়। প্রতিমাসে পরিশোধ করতে হবে। 

হোম লোন এর সুবিধা কি?

বাড়ি তৈরির জন্য লোন গ্রহণ করার অনেক রকম সুবিধা রয়েছে। আমরা বিভিন্ন সময়ে বাড়ি তৈরি অথবা বাড়ির ক্রয় করার ক্ষেত্রে আর্থিক সমস্যা মধ্যে পড়ে যাই। ঠিক সেই সময় বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে আমাদের সমসাকে সমাধান করতে পারি।

এছাড়া নিজের জমাকৃত অর্থ দিয়ে বাড়ি তৈরি করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন। সেই ক্ষেত্রে ব্যাংক থেকে লোন গ্রহণ করলে একেবারেই বাড়ি তৈরি করা সম্ভব। এতে খুব দ্রুত বাড়ি তৈরি করা সম্ভব হয়। ফলে আমাদের বেশি দিন এটা নিয়ে বসে থাকতে হয় না।

শুধু তাই নয় বাড়ি তৈরির লোনের ক্ষেত্রে আরো একটি বড় সুবিধা হচ্ছে এই লোন পরিশোধ করার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সময় দেওয়া হয়। এক বছর থেকে শুরু করে ২৫ বছর পর্যন্ত লোন পরিশোধ মেয়াদ।


থাকে এছাড়াও বাড়ি তৈরির লোনের ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যাংক খুব কম পরিমাণ সুদের হার নির্ধারণ করে। এতে করে অন্যান্য লোন এর তুলনায় হোম লোন গ্রাহকদের কাছে অনেক বেশি সুবিধা।

হোম লোন আবেদন এর যোগ্যতা ও কাগজপত্র

হোম লোন আবেদন এর যোগ্যতা ও কাগজপত্র

যে সমস্ত ডকুমেন্টগুলো আবেদন করার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক তা হচ্ছে-

  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
  • জাতীয় পরিচয় পত্র থাকা বাধ্যতামূলক।
  • স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • বয়স ২২ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
  • নিজস্ব জমির মালিক হতে হবে।
  • অথবা  জমি ক্রয় করার ক্ষেত্রে জমির সঠিক কাগজপত্র দেখাতে হবে।
  • এই লোন পেতে হলে গ্রাহকের অবশ্যই চাকুরী অথবা ব্যবসায়ী হতে হবে।
  • সর্বনিম্ন মাসিক আয় ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা হতে হবে।
  • ইউনিয়ন পরিষদ  হতে নাগরিকত্ব সনদ লাগবে।
  • চারিত্রিক সনদপত্র লাগবে।
  • আবেদনকারীর পিতা অথবা মাতা এবং স্ত্রী অথবা স্বামী এর ব্যক্তিগত তথ্য ও জাতীয় পরিচয় পত্র প্রয়োজন হবে।
  • পূর্বের ছয় মাস এর ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রয়োজন হবে।

বাড়ি করার জন্য ব্যাংক লোন নেওয়ার আবেদন কিভাবে করবেন?

আবেদন করার প্রথম ধাপ হচ্ছে ব্যাংক নির্বাচন করা। কোন ব্যাংক হতে লোন নিতে ইচ্ছুক সেই ব্যাংক নির্বাচন করতে হবে।

এখানে পড়ুন- আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক শিক্ষাবৃত্তি ২০২৪

পরবর্তী কাজ হচ্ছে সেই নির্বাচিত ব্যাংক এর হোম লোন সম্পর্কিত নিয়ম কানুন পড়ে নেওয়া।

এরপর বাড়ি তৈরির লোন আবেদন ফরম সংগ্রহ করার।

আবেদন ফরম সঠিকভাবে পূরণ করার।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করা

আবেদন পত্র জমা দেয়া।

শেষ কথা

আশা করি বাড়ি তৈরীর লোন সম্পর্কিত আর কোন তথ্যের প্রয়োজন নেই। কেননা উপরে বাড়ি তৈরি লোন সম্পর্কিত সকল ধরনের তথ্য প্রদান করেছি। এছাড়াও অন্য কোন ধরনের লোন সম্পর্কিত তথ্য জানতে চাইলে আমাদের সাইট ভিজিট করতে পারেন। আমরা প্রতিনিয়ত লোন এবং শিক্ষাবৃত্তি সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করি।

Share this post with another

Previous Post Next Post
No one has commented on this post yet
Click Here to Comment

আজকের আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url